আদালতের আদেশে বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের পক্ষে স্বস্তি, দ্বিতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা জারি
আদালতের আদেশে বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের পক্ষে স্বস্তি, দ্বিতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা জারি
0:00 0:00

আদালতের আদেশে বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের পক্ষে স্বস্তি, দ্বিতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা জারি

অন্যান্য
আদালতের আদেশে বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের পক্ষে স্বস্তি, দ্বিতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা জারি
১৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম

আদালতের আদেশে বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের পক্ষে স্বস্তি, দ্বিতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা জারি

আলী আহাম্মেদ
বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি
১৯ আগস্ট ২০২৬

সাবহেড: জমি ও ভবন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধে আদালতের হস্তক্ষেপ; বিতর্কিত স্থানে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্বিতীয় পক্ষকে কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের জমি ও ভবন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধে গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দিয়েছেন আদালত। বিরোধপূর্ণ জমিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা থাকায় দ্বিতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালত উভয় পক্ষের শুনানি, বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার প্রতিবেদন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ আদেশ দেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এহসান মুরাদের আদালতে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আদেশটি দেওয়া হয়।

আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভিটিঝগড়ারচর মৌজার বিএস গেজেটেড ১৬ নম্বর খতিয়ানের ২৫৮ নম্বর দাগের ছয় শতক জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। প্রথম পক্ষের দাবি, ওই জমিতে বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবন রয়েছে এবং দ্বিতীয় পক্ষ সেখানে দখলের চেষ্টা করছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে প্রেস ক্লাবের পক্ষে ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর ও নির্মাণকাজের বিভিন্ন পর্যায়ের ছবি, বিদ্যুৎ বিল, পৌরকর পরিশোধের কাগজপত্র, নির্মাণসামগ্রী কেনার ভাউচারসহ বিভিন্ন নথি দাখিলের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ভবন নির্মাণে আর্থিক সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা ২ লাখ ২০ হাজার টাকার চেকের ফটোকপিও নথিতে রয়েছে বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আদালতের আদেশে বলা হয়, মোল্লা মো. নাসির আহমেদ বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সম্মানিত সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বিতর্কিত জমিতে প্রেস ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবন রয়েছে। দ্বিতীয় পক্ষের কর্মকাণ্ডের কারণে সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দ্বিতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আদালত দ্বিতীয় পক্ষকে বিতর্কিত জমিতে এমন কোনো কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কিংবা শান্তি ভঙ্গের কারণ হতে পারে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালে বসুন্ধরা গ্রুপের অর্থায়নে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিষদের সঙ্গে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জন্য প্রেস ক্লাব ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নামে ছয় শতক জমি কেনা হয়। ১৯৮৮ সালে বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ২০২৪ সালে প্রথম নির্বাচিত কমিটি গঠন করা হয়।

নির্বাচনে পরাজিত একটি পক্ষ পরবর্তীতে ‘প্রেসক্লাব বাঞ্ছারামপুর’ নামে পৃথক কমিটি গঠন করলে ‘বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাব’ ও ‘প্রেসক্লাব বাঞ্ছারামপুর’ নাম নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। পরে জমি ও ভবনকে কেন্দ্র করে বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। প্রায় এক বছর আগে এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

আদালতের সর্বশেষ আদেশের অনুলিপি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আদালতের এ আদেশের ফলে বিরোধপূর্ণ জমিতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পথ আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।