দেবিদ্বারে বাড়ির মালিক কে হত্যা করে,মরদেহ ৯ টুকরো করার অভিযোগ ; ভাড়াটিয়া নারী আটক
দেবিদ্বারে বাড়ির মালিক কে হত্যা করে,মরদেহ ৯ টুকরো করার অভিযোগ ; ভাড়াটিয়া নারী আটক
আলী আহাম্মেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক | দেবিদ্বার, কুমিল্লা
৮ আগস্ট ২০২৬
কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভার মোহনা আবাসিক এলাকার ছোট আলমপুরে ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামে এক বাড়ির মালিককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারের বিরুদ্ধে। হত্যার পর মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে তা টুকরো করে পলিথিনে মুড়িয়ে নয়টি প্যাকেটে বাড়ির পেছনের গলিতে ফেলে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা লাইলী আক্তারকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। আটকের সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে মারধর করেছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পেছনের গলিতে মিলল ৯ প্যাকেট
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বার পৌরসভার মোহনা আবাসিক এলাকার ছোট আলমপুরে স্বামী-সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন বসবাস করতেন বাড়ির মালিক ফরিদা ইয়াসমিন। তাঁর স্বামী চাকরিসূত্রে বিদেশে থাকেন এবং তাঁদের দুই মেয়েরই বিয়ে হয়ে গেছে। ফলে ফরিদা ইয়াসমিন বাড়িতে একাই থাকতেন।
শনিবার সকালে ফরিদার ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে এসে মাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। স্বজন ও স্থানীয়রাও বিভিন্ন স্থানে তাঁকে খুঁজতে থাকেন। পরে সন্ধ্যার দিকে ফরিদার বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে পলিথিনে মোড়ানো কয়েকটি প্যাকেট দেখতে পান। সন্দেহ হলে একটি প্যাকেট খুলে ফরিদা ইয়াসমিনের মরদেহের অংশ দেখতে পান তিনি। বিষয়টি পরে পুলিশকে জানানো হয়।
রাত সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের নয়টি প্যাকেট উদ্ধার করে। তবে মরদেহের মাথা ও পা তখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ভাড়াটিয়া নারী আটক
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা ফরিদা ইয়াসমিনের ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। স্থানীয়দের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় লাইলী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী আক্তার তাঁর স্বামী আবুল কালাম আজাদ, রবিউল, সোহেল ও ইমন নামে আরও তিন যুবকের নাম উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডে তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
লাইলী আক্তার দেবিদ্বার পৌর এলাকার চাপানগর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আরও চারজনের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে পুলিশ
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা ইয়াসমিনের টুকরো করা মরদেহের নয়টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মরদেহের মাথা ও পা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, লাইলী আক্তারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও চারজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁদের আটকের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এবং ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারে অভিযান চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির পর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যাবে।






আপনার মতামত লিখুন