বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধন: সাংবাদিকদের নতুন স্বপ্নের যাত্রা
বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধন: সাংবাদিকদের নতুন স্বপ্নের যাত্রা
0:00 0:00

ফ্যাসিস্টরা ১৫ বছর সংবাদপত্রের গলা টিপে ধরেছিল : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি

বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধন: সাংবাদিকদের নতুন স্বপ্নের যাত্রা

অন্যান্য
বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধন: সাংবাদিকদের নতুন স্বপ্নের যাত্রা
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:১৬ এএম

বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধন: সাংবাদিকদের নতুন স্বপ্নের যাত্রা

ফ্যাসিস্টরা ১৫ বছর সংবাদপত্রের গলা টিপে ধরেছিল : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি

আলী আহাম্মেদ | বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

বর্ণাঢ্য আয়োজন, উৎসবমুখর পরিবেশ ও সাংবাদিকদের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের নবনির্মিত ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় বাঞ্ছারামপুর সদর এলাকায় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে নতুন ভবনের উদ্বোধন করা হয়।

ফটো-এটিএম টিভি  (জুনায়েদ সাকি)

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মোঃ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, বিগত ১৫ বছর ফ্যাসিস্টরা সংবাদপত্রের গলা টিপে ধরেছিল। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা সব ধরনের চেষ্টা ও ফন্দিফিকির করেছে। বর্তমান সরকারের আমলে সাংবাদিকরা এখন মন খুলে লিখতে পারছেন।
তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছিল। স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করতে আইনি, প্রশাসনিক ও পরোক্ষভাবে নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা একটি এলাকার উন্নয়ন এবং জনস্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাংবাদিকরা তাদের লেখনীর মাধ্যমে এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি সত্যকে মানুষের সামনে উপস্থাপন করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের নিজস্ব এই নবনির্মিত ভবন স্থানীয় সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও গতিশীলতা আনবে এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোল্লা মোঃ নাসির আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামীম শিবলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য এম এ খালেক (পিএসসি), বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল এমরান খান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক ভিপি এ কে এম মুছা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছালে মুছা, সাবেক ভিপি ও জেলা বিএনপির সদস্য নাজমুল হক, ভিপি আমিরুল ইসলাম সাজ্জাদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দুধ মিয়া মাস্টার প্রমুখ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব বাবুল মিঞা, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের প্রকাশক ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন এবং সাধারণ সম্পাদক বাহার উদ্দিন মোল্লাসহ স্থানীয় সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের প্রকাশক ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী স্থানীয় সাংবাদিকদের উদ্দেশে স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৯৫ সালে বাঞ্ছারামপুরের কয়েকজন সংবাদকর্মী তার মাধ্যমে প্রেস ক্লাবের জন্য জায়গা চেয়ে আবেদন করেছিলেন। পরে তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৬ শতক জায়গা কেনার জন্য সহায়তা করা হয়।
তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর হলেও সেই জায়গায় আজ একটি ভবন নির্মিত হয়েছে। এতে জায়গাটি কাজে লেগেছে এবং বাঞ্ছারামপুরের সংবাদকর্মীদের জন্য একটি নতুন ও স্থায়ী ঠিকানা তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকতা ও প্রেস ক্লাবের ভূমিকা নিয়ে গঠনমূলক বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন এবং সাধারণ সম্পাদক বাহার উদ্দিন মোল্লা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের নবনির্মিত ভবন স্থানীয় সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বাস্তবায়ন। নতুন এই ভবনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেশাগত কর্মকাণ্ড আরও সুসংগঠিত হবে। পাশাপাশি সংবাদ সংগ্রহ, মতবিনিময়, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য একটি কার্যকর পরিবেশ তৈরি হবে।
উপস্থিত সাংবাদিকরা বলেন, নিজস্ব ভবন শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি বাঞ্ছারামপুরের সাংবাদিকতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এই ভবন থেকে স্থানীয় মানুষের কথা, এলাকার সমস্যা-সম্ভাবনা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে নবনির্মিত ভবনে অতিথি, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে এক সৌজন্য মিলনসভা ও আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়।
উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে সাংবাদিকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। নতুন ভবনকে ঘিরে বাঞ্ছারামপুরের সাংবাদিকতায় আরও গতিশীলতা, পেশাদারিত্ব ও জনসম্পৃক্ততা তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত অতিথি ও সাংবাদিকরা।