বাঞ্ছারামপুরে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাধা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ-আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে 
বাঞ্ছারামপুরে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাধা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ-আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে 
0:00 0:00

বাঞ্ছারামপুরে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাধা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ-আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে 

অন্যান্য
বাঞ্ছারামপুরে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাধা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ-আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৩৫ এএম

বাঞ্ছারামপুরে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাধা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ-আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে

আলী আহাম্মেদ
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে পৈতৃক ও ক্রয়কৃত জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে মারধর, নির্মাণকাজে বাধা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জুয়েল মিয়া।

লিখিত অভিযোগ বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শুটকিকান্দি পূর্বপাড়া এলাকায় জমি নিয়ে জুয়েল মিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী আওলাদ হোসেন, নজরুল ইসলাম ও ওবায়দুল্লাহর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
জুয়েল মিয়ার অভিযোগ, সালিশে যার যার অংশ অনুযায়ী জমি ভোগদখলের সিদ্ধান্ত হলেও পরবর্তীতে অভিযুক্তরা তার পৈতৃক ও ক্রয়কৃত জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নিজের বসতবাড়ির পশ্চিম পাশে নিরাপত্তার জন্য ইটের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন জুয়েল মিয়া। গত ৩ মে ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে নির্মাণকাজ চলাকালে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে জুয়েল মিয়া ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। একপর্যায়ে আওলাদ হোসেন লোহার কাঠের ফাইল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন বলে দাবি করেন জুয়েল। নজরুল ইসলাম পানির পাইপ দিয়ে তার দুই পায়ে আঘাত করেন এবং ওবায়দুল্লাহ কিল-ঘুষি মারেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন জুয়েল মিয়া। ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া জমিতে পুনরায় কোনো ধরনের নির্মাণকাজ করলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ এবং লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জুয়েল মিয়া আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত আওলাদ হোসেন দড়িয়াদৌলত ইউনিয়ন যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং স্থানীয়ভাবে তার রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। তবে এটি অভিযোগকারীর বক্তব্য; এর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
আহত অবস্থায় জুয়েল মিয়া বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বলে জানান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কয়েকটি এক্স-রে করার পরামর্শ দেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আওলাদ হোসেন বলেন, “পশ্চিম পাশে আমার ৩০ শতাংশ জায়গা আছে। সেখানে যাওয়ার জন্য রাস্তার প্রয়োজন। জুয়েল হাঁটার রাস্তা না রেখে দেয়াল নির্মাণ করায় আমি বাধা দিয়েছি।
এ ঘটনায় আওলাদ হোসেন, নজরুল ইসলাম ও ওবায়দুল্লাহসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন জুয়েল মিয়া।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইয়াছিন জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।