বাঞ্ছারামপুরে বিবাহিত নারীকে উত্ত্যক্ত ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, উসমান গনির-বিরুদ্ধে অভিযোগ
বাঞ্ছারামপুরে বিবাহিত নারীকে উত্ত্যক্ত ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, উসমান গনির-বিরুদ্ধে অভিযোগ
0:00 0:00

বাঞ্ছারামপুরে বিবাহিত নারীকে উত্ত্যক্ত ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, উসমান গনির-বিরুদ্ধে অভিযোগ

অন্যান্য
বাঞ্ছারামপুরে বিবাহিত নারীকে উত্ত্যক্ত ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, উসমান গনির-বিরুদ্ধে অভিযোগ
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:০৪ পিএম

 


বাঞ্ছারামপুরে বিবাহিত নারীকে উত্ত্যক্ত ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে এক বিবাহিত নারীকে উত্ত্যক্ত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবি সম্পাদনা করে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে উসমান গনি (২৮) নামে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর তাকে থানায় ডেকে নিয়ে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
উসমান গনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ভুক্তভোগী নারী বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় উসমান গনির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই নারীর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে উসমান গনি বিভিন্ন সময় তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। একপর্যায়ে ওই নারীর ছবি ব্যবহার করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি সম্পাদনা করে তার দেবরের মেসেঞ্জারে পাঠানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ওই নারীর সামাজিক ও পারিবারিকভাবে সম্মানহানি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, উসমান গনি ওই নারীকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। বিয়েতে রাজি না হলে ছবি সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ওই নারীর মায়ের কাছে ৪ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা দিলে আর উত্ত্যক্ত করা হবে না—এমন কথাও বলা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া স্বামীকে ছেড়ে তাকে বিয়ে না করলে সুযোগ পেলে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন ওই নারী।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলেও অভিযুক্ত এতে কর্ণপাত করেননি। পরে বাধ্য হয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ উসমান গনিকে থানায় নিয়ে যায়। পরে কয়েকজন বিএনপি নেতা থানায় গিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে। এরপর ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না—এমন শর্তে মুচলেকা নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে জানা যায়।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ইভটিজিং, সাইবার বুলিং ও নারীদের হয়রানির বিষয়ে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। এ ধরনের ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগটির যথাযথ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন।