২–৩ সেকেন্ডেই বাইক চুরি, বাঞ্ছারামপুরে ‘চোরাই মোটরসাইকেল’ সিন্ডিকেটের সন্ধান: গ্রেপ্তার ৪
২–৩ সেকেন্ডেই বাইক চুরি, বাঞ্ছারামপুরে ‘চোরাই মোটরসাইকেল’ সিন্ডিকেটের সন্ধান: গ্রেপ্তার ৪
0:00 0:00

২–৩ সেকেন্ডেই বাইক চুরি, বাঞ্ছারামপুরে ‘চোরাই মোটরসাইকেল’ সিন্ডিকেটের সন্ধান: গ্রেপ্তার ৪

অন্যান্য
২–৩ সেকেন্ডেই বাইক চুরি, বাঞ্ছারামপুরে ‘চোরাই মোটরসাইকেল’ সিন্ডিকেটের সন্ধান: গ্রেপ্তার ৪
৩০ আগস্ট ২০২৬, ৭:৫৪ পিএম

২–৩ সেকেন্ডেই বাইক চুরি, বাঞ্ছারামপুরে ‘চোরাই মোটরসাইকেল’ সিন্ডিকেটের সন্ধান: গ্রেপ্তার ৪

আলী আহাম্মেদ | নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোর চক্র বিশেষ প্রযুক্তির ‘মাস্টার কি’ ব্যবহার করে মাত্র ২ থেকে ৩ সেকেন্ডে মোটরসাইকেলের লক খুলে চুরি করে আসছিল বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রাজধানী ঢাকা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে অভিযান চালিয়ে চক্রটির অন্যতম হোতাসহ চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. সজীব (২৮), মো. নিশান আহমেদ (২৫), রুবেল আহমেদ (৩৮) ও নিত্য সরকার (১৯)।
ডিবি ও স্থানীয় থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের কাছ থেকে সুজুকি গিক্সার, ইয়ামাহা আর-১৫, রয়্যাল এনফিল্ড ও হোন্ডা সিবিআরসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৬টি চোরাই মোটরসাইকেল এবং বিপুল পরিমাণ মাস্টার চাবি উদ্ধার করা হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চক্রের সন্ধান
পুলিশ জানায়, ডেমরা ও মিরপুর এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে মোটরসাইকেল চোর চক্রটির গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। পরে রাজধানী ঢাকা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, গত ৭ থেকে ৮ বছরে চক্রটি ঢাকাসহ দেশের অন্তত পাঁচ জেলার প্রায় ২০টি পয়েন্ট থেকে এক হাজারের বেশি মোটরসাইকেল চুরি করেছে বলে পুলিশের ধারণা।
চুরি হওয়া বাইকের গন্তব্য বাঞ্ছারামপুর
তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি করা মোটরসাইকেলের বড় একটি অংশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর এলাকায় পাঠানো হতো। সেখানে বিভিন্ন রিসিভার পয়েন্টের মাধ্যমে এসব মোটরসাইকেল বিক্রি করা হতো বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের তথ্যমতে, লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল চুরি করে মাত্র ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হতো। সাধারণ ক্রেতাদের কাছে চোরাই মোটরসাইকেল বৈধ হিসেবে উপস্থাপন করতে ভুয়া নিলাম কাগজপত্র, নকল কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও জাল রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
‘ফ্রেন্ডস বাইক গ্যালারি’ ঘিরে তদন্ত
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, বাঞ্ছারামপুরের ‘ফ্রেন্ডস বাইক গ্যালারি’ চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার একটি গুরুত্বপূর্ণ রিসিভার পয়েন্ট বা ‘হাব’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তবে এ ঘটনায় শোরুমটির সংশ্লিষ্টতা ও ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে আইনগতভাবে নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
চারটি দলে ভাগ হয়ে কাজ করত চক্র
তদন্তে আরও জানা গেছে, মূল হোতার অধীনে চক্রটি চারটি প্রশিক্ষিত দল বা উপদলে বিভক্ত হয়ে কাজ করত। এসব দলের সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন জনবহুল সড়ক, গলি ও পার্কিং এলাকা থেকে অল্প সময়ের মধ্যে মোটরসাইকেল চুরি করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিত।
পরে চুরি করা মোটরসাইকেলগুলো ঢাকার বাইরে নির্দিষ্ট রিসিভারদের কাছে পাঠানো হতো। সেখানে কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে এগুলো বৈধ হিসেবে দেখিয়ে বিক্রির চেষ্টা করা হতো বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বংশাল থানায় মামলা
এ ঘটনায় রাজধানীর বংশাল থানায় দণ্ডবিধির ৪১৩ ধারায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের ভিত্তিতে চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটির পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা আরও চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মেটা বর্ণনা:
২–৩ সেকেন্ডে মোটরসাইকেল চুরি করা সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার। বাঞ্ছারামপুরে অভিযান চালিয়ে ১৬টি চোরাই মোটরসাইকেল ও মাস্টার চাবি উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ।