নাসিরনগরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তালিকায় এমপি হান্নানের স্বজনদের নাম
নাসিরনগরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তালিকায় এমপি হান্নানের স্বজনদের নাম
0:00 0:00

নাসিরনগরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তালিকায় এমপি হান্নানের স্বজনদের নাম

অন্যান্য
নাসিরনগরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তালিকায় এমপি হান্নানের স্বজনদের নাম
১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৩ এএম

নাসিরনগরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তালিকায় এমপি হান্নানের স্বজনদের নাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশের পর স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশিত তালিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের ছেলে, ভগ্নিপতি ও ভাগনের স্ত্রীর নাম থাকায় জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ডিলারশিপ প্রত্যাশীরা।

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নে এমপি এম এ হান্নানের ছেলে আদনান সাদী ‘মেসার্স আলীয়াহ ট্রেডার্স’ নামে, নাসিরনগর সদর ইউনিয়নে তাঁর ভগ্নিপতি আরক মিয়া ‘মেসার্স আয়ান ট্রেডার্স’ নামে এবং গোয়ালনগর ইউনিয়নে তাঁর ভাগনের স্ত্রী নুরুন্নাহার আক্তার স্বর্ণা ‘এস এস ট্রেডার্স’ নামে সার ডিলারশিপ পেয়েছেন।

এমপির ছেলে ও আত্মীয়স্বজনের ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনও নিশ্চিত করেছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

৮২৫ আবেদনকারীর মধ্যে ১০৬টি ডিলারশিপ

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ১০১টি ইউনিয়ন ও পাঁচটি পৌরসভায় ১০৬টি সার ডিলারশিপের বিপরীতে আবেদন করেন ৮২৫ জন। যাচাই-বাছাই শেষে ২৯২ জনের আবেদন সার ডিলার-সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে সুপারিশ করে পাঠানো হয়।

প্রতিটি ইউনিয়নের ডিলার নিয়োগের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিনজনের নাম সুপারিশ করে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আবেদনগুলো উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়। পরে সেখান থেকে তিনজনের নাম পাঠানো হয়। এ প্রক্রিয়ায় তালিকায় প্রথম স্থানে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

তালিকা নিয়ে যা বলছে কৃষি বিভাগ

ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান বলেন, উপজেলা থেকে প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য যেসব নাম পাঠানো হয়েছে, সেগুলোই সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে তালিকায় এক-দুটি ক্ষেত্রে এদিক-সেদিক হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা তাঁর জানা নেই। উপজেলা পর্যায়ে তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ হয়ে থাকতে পারে। তালিকা প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের কাছে কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও তিনি জানতে পেরেছেন।

চারটি অভিযোগ পেয়েছে জেলা প্রশাসন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ রোববার বিকেলে গণমাধ্যমকে জানান, সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে এখন পর্যন্ত চারটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মীদের কারণে তালিকায় একটি নাম ভুল হয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। অন্য নামগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিটি যোগ্যতা বিবেচনা করে সুপারিশ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এমপি এম এ হান্নানের ছেলে ও আত্মীয়স্বজনের ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, উপজেলা পর্যায়ের কমিটি যাঁদের যোগ্য মনে করেছে, তাঁদের নাম সুপারিশ করেছে। তালিকায় এমপির আত্মীয়স্বজনের নাম থাকলেও তাঁদের মনোনয়নের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ বিবেচনা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত কোনো তথ্য দেননি।

সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ ও ডিলারশিপ প্রত্যাশীরা। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।