বাঞ্ছারামপুরের আলোচিত প্রেমঘটিত বিয়ে: কুলাউড়া থানা থেকে নবদম্পতি গ্রেফতার
বাঞ্ছারামপুরের আলোচিত প্রেমঘটিত বিয়ে: কুলাউড়া থানা থেকে নবদম্পতি গ্রেফতার
আলী আহাম্মেদ
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে আলোচিত প্রেমঘটিত বিয়ের ঘটনায় কনের পরিবারের দায়ের করা অপহরণ মামলায় বর নাঈম মিয়া (২৫) ও কনে সামিয়া আক্তার তিশাকে সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানা এলাকা থেকে আটক করেছে পুলিশ।
এর আগে একই মামলায় বরের বাবা মনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। নবদম্পতি আত্মগোপনে থাকার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আটক করে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পাহাড়িয়াকান্দি ইউনিয়নের নবীপুর ডোমরাকান্দি গ্রামের আল আমিনের মেয়ে সামিয়া আক্তার তিশা এবং পার্শ্ববর্তী জয়কালিপুর গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে নাঈম মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর তারা নিজেদের ইচ্ছায় কাজী অফিসে গিয়ে ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে রেজিস্ট্রি কাবিনের মাধ্যমে বিয়ে করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিয়ের কাবিননামায় কনের বয়স প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে উল্লেখ রয়েছে এবং সেখানে তার স্বাক্ষর রয়েছে বলেও জানা গেছে।
তবে বিয়ের বিষয়টি মেনে না নিয়ে কনের পরিবারের পক্ষ থেকে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় অপহরণের অভিযোগে মামলা করা হয়। ওই মামলায় বরের বাবা মনু মিয়াকেও আসামি করা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
এদিকে নবদম্পতি বাঞ্ছারামপুরের বাইরে চলে গেলে পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্তে অভিযান শুরু করে। পরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাঈম ও সামিয়াকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক দুজনকে বাঞ্ছারামপুর থানায় এনে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম শেষে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
আটক নাঈম ও সামিয়ার দাবি, তারা কোনো অপরাধ করেননি। দুজনের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের সম্মতিতেই বিয়ে করেছেন।
তবে তাদের বিয়ের বৈধতা, অপহরণের অভিযোগের সত্যতা এবং মামলায় কার কী ভূমিকা রয়েছে—এসব বিষয় আদালতের আইনগত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কনে আদালতে কী বক্তব্য দেন এবং মামলার তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই এখন স্থানীয়দের নজর।

এটিএমটিভি ২৪ 





আপনার মতামত লিখুন