Logo
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬  |  প্রিন্ট: শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লায় মধ্যরাতে বাড়ি ফেরার পথে তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যা: ঘাতক সিএনজি চালক গ্রেফতার, আইফোন উদ্ধার

এটিএমটিভি ২৪

এটিএমটিভি ২৪

কুমিল্লায় মধ্যরাতে বাড়ি ফেরার পথে তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যা: ঘাতক সিএনজি চালক গ্রেফতার, আইফোন উদ্ধার

​

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

কক্সবাজার থেকে ফিরে মধ্যরাতে বাড়ি যাওয়ার পথে কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় তাজমিন নামের এক তরুণীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সিএনজি অটোরিকশা চালক সুমনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ভিকটিমের চুরি হওয়া আইফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

​পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে।

​মধ্যরাতে লাইভ লোকেশন পাঠিয়েও বাঁচতে পারল না তাজমিন

​পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর তাজমিন বাড়ি থেকে এক বন্ধুর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হন। পরবর্তীতে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাতে তিনি কক্সবাজার থেকে বাসে করে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার নূরজাহান হোটেলের সামনে নামেন। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে তিনি অভিযুক্ত সুমনের সিএনজি অটোরিকশায় ওঠেন।

কুমিল্লায় মধ্যরাতে বাড়ি ফেরার পথে তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যা: ঘাতক সিএনজি চালক গ্রেফতার, আইফোন উদ্ধার

​পথিমধ্যে বিপদ আঁচ করতে পেরে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে তাজমিন তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপে (WhatsApp) লাইভ লোকেশন শেয়ার করে উদ্ধারের আকুতি জানান। তবে গভীর রাত হওয়ায় এবং বাবা ঘুমিয়ে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বার্তাটি দেখতে পাননি।

​ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের নির্মম বিবরণ

​জিজ্ঞাসাবাদে সিএনজি চালক সুমন জানায়, গভীর রাতে একটি নির্জন স্থানে গাড়ি থামিয়ে সে তাজমিনকে অসৎ উদ্দেশ্যে আটকানোর চেষ্টা করে। এ সময় তরুণী চিৎকার ও ধস্তাধস্তি শুরু করলে সুমন নিজের গামছা দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরে। পরবর্তীতে পাশের একটি ধানক্ষেতে তরুণীকে উপুড় করে ফেলে এবং পা দিয়ে মাথা চেপে ধরে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

​মরদেহ ও আলামত উদ্ধার

​পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের নিথর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের পাশ থেকেই পরিত্যক্ত অবস্থায় ঘাতক সুমনের সিএনজি অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।

​হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর সুমন তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটি নিয়ে চট্টগ্রামে পালিয়ে যায়। যাওয়ার আগে ফোনটি ঝালমুড়ি বাজার এলাকার একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে লুকিয়ে রাখে। প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুকিয়ে রাখা আইফোনটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

প্রকাশক : আলী আহাম্মেদ, সম্পাদক : মো: আসাদুজ্জামান

প্রিন্ট করুন