Logo
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬  |  প্রিন্ট: শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

বাঞ্ছারামপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নরসিংদীর ভাড়াটে -জুয়েল নিহত, আহত ২০

এটিএমটিভি ২৪

বাঞ্ছারামপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নরসিংদীর জুয়েল নিহত, আহত ২০

আলী আহাম্মেদ
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে জুয়েল মিয়া (১৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ ও টেঁটাবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার শান্তিপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত জুয়েল মিয়া নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের সেন্টু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শান্তিপুর গ্রামের সেবু সরকার ও আজগর আলী সরকার বাড়ির লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। গত ৩০ জুনও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর সেবু সরকার বাড়ির প্রায় দেড়শ লোক এলাকা ছেড়ে নরসিংদীতে অবস্থান করছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রোববার রাতে সেবু সরকার বাড়ির লোকজন এলাকায় ফিরে এলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এক নালা দেশীয় বন্দুক ও বাঁচতে বুলেট

সংঘর্ষে জুয়েল মিয়াসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের বাঞ্ছারামপুরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নরসিংদী থেকে লোক আসার অভিযোগ
স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, সংঘর্ষে নরসিংদী থেকে লোকজন অংশ নিয়েছিল। নিহত জুয়েলও বন্ধুর সঙ্গে বাঞ্ছারামপুরে এসেছিলেন বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নিহত জুয়েল মিয়ার ভাই বলেন, আমার ভাই তারেক নামে এক বন্ধুর সঙ্গে বাঞ্ছারামপুরে এসেছিল। বিষয়টি আমরা জানতাম না। সকালে খবর পেয়ে বাঞ্ছারামপুরে এসে হাসপাতালে দেখি, জুয়েল মারা গেছে।

নিহত জুয়েল মিয়া

তবে সংঘর্ষে কারা আগে হামলা করেছে এবং নরসিংদী থেকে আসা লোকজন কীভাবে এতে জড়িয়েছে, তা তদন্তসাপেক্ষ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে সেবু সরকার বাড়ির লোকজনের পক্ষ থেকে বাড়িঘর ভাঙচুর এবং গরু-ছাগল লুটের অভিযোগ করা হলেও আজগর আলী সরকার বাড়ির লোকজন তা অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ হয়েছে এবং কোনো লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি।
অস্ত্র ও ককটেল উদ্ধার

ওসি মোহাম্মদ ইয়াসিন বাঞ্ছারামপুর

বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াছিন জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ভোরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি একনলা দেশীয় বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও পাঁচটি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ওসি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রকাশক : আলী আহাম্মেদ, সম্পাদক : মো: আসাদুজ্জামান

প্রিন্ট করুন