Logo
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  প্রিন্ট: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ভোগান্তি কমাতে সোলার বিদ্যুৎ উপহার দিল বাঞ্ছারামপুর-ইসলামী হাসপাতাল

এটিএমটিভি ২৪

এটিএমটিভি ২৪

সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ভোগান্তি কমাতে সোলার বিদ্যুৎ উপহার দিল বাঞ্ছারামপুর ইসলামী হাসপাতাল

আলী আহাম্মেদ | বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় বাঞ্ছারামপুর ইসলামী হাসপাতাল। চলমান লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত হওয়ায় সেখানে সোলার ইনভার্টার, লিথিয়াম ব্যাটারি ও অটোমেটিক চেঞ্জওভার সুইচ স্থাপন করে দিয়েছে বেসরকারি হাসপাতালটি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে বিরামহীন লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছিল। প্রচণ্ড গরমে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের দুর্ভোগ ছিল চরমে। হাসপাতালের নিজস্ব কোনো বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা না থাকায় এবং জেনারেটর বিকল থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগী ও চিকিৎসক উভয়কেই ভোগান্তিতে পড়তে হতো।
এমন পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে বাঞ্ছারামপুর ইসলামী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সমাজসেবক মো. মোশাররফ হোসেন রিপন সরকারি হাসপাতালের রোগীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেন।
নতুন এ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেও প্রায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসাসেবা সচল রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রায় ২৫টি লাইট ও ৪৫টি ফ্যান চালানো যাবে। ফলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিদ্যুৎ চলে গেলেও আলো ও ফ্যান সচল থাকবে।
বিকেলে হাসপাতাল চত্বরে এ সোলার ইনভার্টার ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল এমরান খান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রঞ্জন বর্মণ, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদ মিয়া, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আলহাজ দুধ মিয়া মাস্টার, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী আসলাম হোসেন বলেন, আগে বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালে চরম দুর্ভোগে পড়তে হতো। প্রচণ্ড গরমে রোগীদের অনেক কষ্ট সহ্য করতে হতো। এখন বিদ্যুৎ চলে গেলেও আলো ও ফ্যান সচল থাকবে জেনে খুব ভালো লাগছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রঞ্জন বর্মণ বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে বাঞ্ছারামপুর ইসলামী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে ইনডোর, আউটডোর ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যসেবা দিতে আমাদের যথেষ্ট কষ্ট পোহাতে হতো। ইসলামী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশাররফ হোসেনের আন্তরিক সদিচ্ছা ও দ্রুত উদ্যোগের কারণে এখন বিদ্যুৎ চলে গেলেও রোগীদের সেবা প্রদানে আর ব্যত্যয় ঘটবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল এমরান খান বলেন, একটি বেসরকারি হাসপাতাল কোনো প্রতিযোগিতা বা ঈর্ষার মনোভাব না রেখে সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ভোগান্তি কমাতে এগিয়ে এসেছে—এটি অবশ্যই প্রশংসনীয় ও বিরল ঘটনা।
তিনি বলেন, অনেক সময় বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ শোনা যায়। কিন্তু সেখানে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সরকারি হাসপাতালের রোগীদের সুবিধার জন্য এগিয়ে এসেছে বাঞ্ছারামপুর ইসলামী হাসপাতাল।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এমন মানবিক সহযোগিতা স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন সোলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর ফলে এখন থেকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।

প্রকাশক : আলী আহাম্মেদ, সম্পাদক : মো: আসাদুজ্জামান

প্রিন্ট করুন