বাঞ্ছারামপুরে গৃহবধূ শিল্পী বেগমের মৃত্যু: স্বামী নূরে আলম পুলিশের হাতে আটক
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি | আলী আহাম্মেদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে গৃহবধূ শিল্পী বেগম (৩৫)-এর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী নূরে আলমকে পুলিশের হাতে আটক করা হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের মধ্যনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, যৌতুকের অতিরিক্ত অর্থের দাবিতে নির্যাতনের পর শিল্পী বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে অচেতন অবস্থায় শিল্পী বেগমকে তাঁর স্বামী নূরে আলম বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করার পর নূরে আলম হাসপাতাল থেকে চলে যান বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে নিহতের স্বজনরা শিল্পীর শরীর ও গলায় দাগ দেখতে পান। এ ঘটনায় তাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয় এবং বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
নিহতের পরিবারের দাবি, এর আগে নূরে আলমকে দেওয়ার জন্য শিল্পীর বাবার জমি বিক্রি করে প্রায় ৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও নতুন করে জমি বিক্রির টাকা দাবি করা হয়। এ নিয়ে শিল্পীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলেও অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনার পর মধ্যনগর গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে শত শত গ্রামবাসী বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন।
এর মধ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নূরে আলমকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গলায় দাগ থাকায় বিষয়টি সন্দেহজনক বলে মনে হয়েছে। লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পর শিল্পী বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।