প্রবাসফেরত অসুস্থ জামালকে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ, মানবিক সহায়তা ও তদন্তের দাবি
সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি | ৩ আগস্ট ২০২৬
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় প্রবাসফেরত অসুস্থ এক ব্যক্তিকে গভীর রাতে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্ত্রী ও সন্তানদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত নারী অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি কয়েক মাস আগেই স্বামীকে তালাক দিয়েছেন এবং এ ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী জামাল উদ্দিন (৪৯) সখীপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটিয়ে পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জন করেন তিনি। কয়েক বছর আগে কিডনিসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় আট মাস আগে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
স্থানীয়দের দাবি, শনিবার (১ আগস্ট) গভীর রাতে জামাল উদ্দিনকে তার পৈতৃক ভিটার পাশের সড়কে ফেলে রেখে যান তার সাবেক স্ত্রী রিনা আক্তার ও সন্তানরা। পরে বৃষ্টির মধ্যে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালমেঘা গ্রামের উত্তর-পূর্ব পাড়ায় তার ভাতিজি ইসমতারার বাড়িতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশাররফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে এলাকাবাসী দ্রুত এগিয়ে এসে অসুস্থ জামাল উদ্দিনকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।
জামাল উদ্দিনের বড় ভাই সোহরাব আলী বলেন, তিনি আগে থেকেই ভাইকে শ্বশুরবাড়িতে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই পরামর্শ না মানার ফলেই আজ তাকে এমন করুণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। বর্তমানে জামাল এতটাই অসুস্থ যে তিনি ঠিকমতো কথাও বলতে পারছেন না।
এদিকে অভিযুক্ত রিনা আক্তার বলেন, আমি কয়েক মাস আগে আমার স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েছি। তার সঙ্গে এখন আর আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি কীভাবে ওই এলাকায় পৌঁছেছেন, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
ঘটনার বিষয়ে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা অসুস্থ জামাল উদ্দিনের উন্নত চিকিৎসা, মানবিক সহায়তা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।