Logo
প্রকাশ: রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬  |  প্রিন্ট: রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

স্পিডবোটের ভাড়া নিয়ে বিরোধে যুবক গুলিবিদ্ধ, আসামিদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে বাঞ্ছারামপুরে মানববন্ধন

এটিএমটিভি ২৪

এটিএমটিভি ২৪

স্পিডবোটের ভাড়া নিয়ে বিরোধে যুবক গুলিবিদ্ধ, আসামিদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে বাঞ্ছারামপুরে মানববন্ধন

আলী আহাম্মেদ
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) | ২৭ জুলাই ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মরিচাকান্দি গ্রামে স্পিডবোটের ভাড়া নিয়ে তুচ্ছ বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ ও সশস্ত্র হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ জাহাঙ্গীর আলম (৩৪) বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) মরিচাকান্দি বউ বাজারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ, মুরুব্বি, ব্যবসায়ী, যুবসমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। বক্তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার এবং এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে মরিচাকান্দি স্পিডবোট ঘাটে চালক আসাদুল্লাহ (২৫) ও যাত্রী ইমরান (৩২)-এর মধ্যে ১০০ টাকা ভাড়া এবং একটি শিশুকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডা হয়। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা হলেও অভিযুক্তরা ক্ষোভ পুষে রাখে।
পরে জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মরিচাকান্দি পূর্বপাড়ায় ফরিদ মিয়ার বাড়ির পাশে আসাদুল্লাহর পথরোধ করে একদল সশস্ত্র হামলাকারী। তারা লাঠিসোঁটা, রামদা, হকি স্টিক ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। স্থানীয়দের দাবি, এর আগের দিনও একই চক্রের হাতে আল-আমিন নামে এক সিএনজি চালক মসজিদের ভেতরে মারধরের শিকার হন।
প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ, গুরুতর আহত জাহাঙ্গীর
আসাদুল্লাহকে উদ্ধার করতে গেলে তার ভাই দেলোয়ার হোসেন, জাহাঙ্গীর আলমসহ স্বজনরা হামলার মুখে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীদের একজন শরীফ (২৮) কোমর থেকে পিস্তল বের করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে জাহাঙ্গীর আলমের নাভির নিচে গুলি লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এ সময় হামলাকারীরা অন্যদেরও লোহার রড ও হকি স্টিক দিয়ে মারধর করে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তারা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আহত জাহাঙ্গীরকে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রের আলামত উদ্ধার
খবর পেয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন আলামত জব্দ করে। উদ্ধার করা হয়—
২ রাউন্ড গুলির খোসা
১ রাউন্ড অবিস্ফোরিত গুলি ও ফায়ারকৃত গুলির অংশবিশেষ
১টি নেভি ব্লু রঙের পিস্তলের কভার
৩টি রামদা
১০টি প্লাস্টিকের পাইপ
এ ঘটনায় আহতের ভাই মো. দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে শরীফ, ইমরান, কাদির সরকারসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ৭/৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় মামলা (মামলা নং-২০) দায়ের করেছেন।
মানববন্ধনে এলাকাবাসীর ক্ষোভ
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মরিচাকান্দি দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ গ্রাম হিসেবে পরিচিত। প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মামলার বাদী দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, মামলা হওয়ার পরও মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়নি। তিনি দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দুলাল মিয়া বলেন, জীবনে এমন প্রকাশ্যে গুলির ঘটনা দেখেননি। তিনি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিপন মিয়া বলেন, কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তির কারণে গ্রামের দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি অপরাধীদের কোনো ধরনের প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান জানান।
স্থানীয় রিয়াজ ব্যাপারী দাবি করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগেও নানা অভিযোগ ছিল। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় অস্ত্রের বিস্তার আরও বাড়বে।
এছাড়া মতি মেম্বার ও দিলদার হোসেন বড় মিয়া ডাক্তার বলেন, শান্তিপ্রিয় মরিচাকান্দিতে সন্ত্রাস ও অস্ত্রের রাজত্ব কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
সমাবেশ থেকে বক্তারা অবৈধ অস্ত্রের উৎস শনাক্ত করে তা বন্ধ, হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং ঘাটকেন্দ্রিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর নজরদারির দাবি জানান। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিদের আইনের আওতায় না আনা হলে এলাকাবাসী আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

প্রকাশক : আলী আহাম্মেদ, সম্পাদক : মো: আসাদুজ্জামান

প্রিন্ট করুন