বাঞ্ছারামপুরে জমি বিরোধে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের গৃহবন্দী থাকার অভিযোগ;
প্রশাসনের হস্তক্ষেপের আশ্বাস
আলী আহাম্মেদ
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি | ১৯ জুলাই ২০২৬
রূপসদী দক্ষিণপাড়ায় যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ; প্রতিপক্ষ বলছে, জায়গাটি তাদের মালিকানাধীন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার গৃহবন্দী থাকার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, বাড়ির যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় তারা টানা তিন দিন ধরে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। এ সময় পরিবারের তিন শিশুসহ সদস্যরা খাদ্যসংকটে পড়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, রূপসদী দক্ষিণপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহের আলীর পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, তিন দিন আগে প্রতিপক্ষ বাড়ির প্রবেশপথে বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। এতে পরিবারের ছয় সদস্য, যার মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে, ঘর থেকে বের হতে পারছেন না বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ঘরে থাকা খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এমনকি কেউ খাবার নিয়ে আসার চেষ্টা করলেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহের আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
আমরা মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। অথচ আজ নিজের বাড়িতেই বন্দী হয়ে আছি। বাচ্চারা খাবারের জন্য কান্না করছে। প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।
তার নাতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন,
“আমাদের রান্নাঘর অন্য পাশে। সেখানে যাওয়া-আসা করতে পারছি না। তিন দিন ধরে আমরা অনাহারে আছি। ঘরে তিনটি ছোট শিশু রয়েছে।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন,
“রান্নাঘরটি অন্য বাড়ির পাশে পড়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা সমস্যার সমাধান করে পথ খুলে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিকুল ইসলাম বলেন,
বিষয়টি আমরা দেখছি। পরিবারের ঠিকানাটি দিন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন বলেন,
বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষ সাহিদা বেগম বলেন,
এ জায়গাটি আমাদের। আমরা আমাদের জমিতে বেড়া দিয়েছি। জায়গাটি আমি কিনেছি। প্রয়োজন হলে বেড়া খুলে দেওয়া হবে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের সত্যতা দ্রুত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ আইনগতভাবে নিষ্পত্তির মাধ্যমে উভয় পক্ষের নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।