Logo
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬  |  প্রিন্ট: শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

মেঘনায় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে, প্রতিবাদে মিছিল ও মানববন্ধন

এটিএমটিভি ২৪

এটিএমটিভি ২৪

মেঘনায় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে, প্রতিবাদে মিছিল ও মানববন্ধন

জুনায়েদ আহমেদ | মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার মেঘনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি মো. আলী হোসেনকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন মেঘনা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ।

মেঘনায় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে, প্রতিবাদে মিছিল ও মানববন্ধন

রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মেঘনা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ‘মেঘনা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বক্তব্য দেন বিএনপির কুমিল্লা উত্তর জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস উদ্দিন কমান্ডারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

মেঘনায় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে, প্রতিবাদে মিছিল ও মানববন্ধন

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কারেরও দাবি তোলেন তাঁরা। বক্তারা বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা ও দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

ইউএনওর কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ

এর আগে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন আলী হোসেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত একটি সভায় বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী আক্তারের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। এ সময় রমিজ উদ্দিন লন্ডনী তাঁকে ধমক দেন এবং সভায় কে তাঁকে আসতে বলেছেন, তা জানতে চান।

আলী হোসেনের অভিযোগ, একপর্যায়ে রমিজ উদ্দিন তাঁর গলা চেপে ধরেন। পরে সভা শেষে এ বিষয়ে জানতে ইউএনওর কক্ষে গেলে সেখানে ইউএনও, মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম ও কয়েকজন নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে তাঁকে গলা চেপে ধরে এলোপাতাড়ি ঘুষি ও লাথি মারা হয়। পরে উপস্থিত লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি সুস্থ হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে রমিজ উদ্দিন লন্ডনীকে সহযোগিতা না করায় তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আলী হোসেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে তাঁকে গালমন্দ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

অভিযোগ অস্বীকার রমিজ উদ্দিনের

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রমিজ উদ্দিন লন্ডনী বলেন, সেখানে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের কাছে বিষয়টি জানতে পারেন। আলী হোসেনের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়েছে বলে স্বীকার করলেও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, মারধরের অভিযোগটি সাজানো নাটক।

রমিজ উদ্দিন আরও দাবি করেন, বিএনপির যে অংশটি পদ পায়নি, তাদের কেউ কেউ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এ বিষয়ে ইউএনও, ওসি ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছ থেকে জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ইউএনও ও ওসির বক্তব্য

মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী আক্তার বলেন, তাঁর কার্যালয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছে। তবে তাঁর সামনে মারামারি বা শারীরিক লাঞ্ছনার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাঁর ভাষ্য, কার্যালয়ের বাইরে কিছু ঘটে থাকলে সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। পরে ওসির উপস্থিতিতে দুজনকে আলাদা করে দেওয়া হয়।

মেঘনা থানার ওসি মো. শহীদুল ইসলামও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তাঁকে রমিজ উদ্দিন লন্ডনীকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, তিনি সত্য কথাই বলেছেন।

মুক্তিযোদ্ধার দাবি, উপস্থিত ব্যক্তিরা ছিলেন অভিযুক্তের লোকজন

এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে তাঁর পক্ষের কোনো লোকজন ছিলেন না। থাকলে তাঁরা প্রতিবাদ করতেন। তাঁর দাবি, উপস্থিত ব্যক্তিরা রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর লোকজন হওয়ায় তিনি মারধরের শিকার হয়েছেন। ইউএনও ও ওসি ঘটনাটি স্বীকার করবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অভিযোগপত্রে আলী হোসেন নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে এ ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রকাশক : আলী আহাম্মেদ, সম্পাদক : মো: আসাদুজ্জামান

প্রিন্ট করুন