Logo
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  প্রিন্ট: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাঞ্ছারামপুরে প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, আদালতে মামলা

এটিএমটিভি ২৪

এটিএমটিভি ২৪

বাঞ্ছারামপুরে প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, আদালতে মামলা

আলী আহাম্মেদ | নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদীতে পেঁপে খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ১০ বছরের এক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ৬৫ বছর বয়সী মতি মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির মা মনিরা বেগম বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন।
মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম জানান, মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে মতি মিয়া এবং সহযোগী হিসেবে কাশেম মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করা হয়।
ঘটনার বর্ণনা
বুধবার সরেজমিনে ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়িতে গেলে সাংবাদিকদের দেখে তার মা মনিরা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মনিরা বেগমের অভিযোগ, গত ২৩ আগস্ট দুপুরে মতি মিয়া তাঁর প্রতিবন্ধী মেয়েকে পেঁপে দেওয়ার কথা বলে বাগানবাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে অভিযুক্ত মতি মিয়া সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি।
মনিরা বেগম বলেন, স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মেয়েকে ধর্ষণের কথা ছড়িয়ে পড়লেও সেটি সঠিক নয়। তাঁর দাবি, শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে এবং এ অভিযোগেই আদালতে মামলা করা হয়েছে। তিনি তাঁর মেয়ের ওপর সংঘটিত অন্যায়ের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
সালিশের নামে কালক্ষেপণ ও হুমকির অভিযোগ
ভুক্তভোগী শিশুটির চাচা খোকা মিয়া বলেন, শিশুটির বাবা প্রবাসী হওয়ায় তাঁরা অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউপি সদস্যদের বিষয়টি জানানো হলে তাঁরা স্থানীয়ভাবে মীমাংসার আশ্বাস দেন। তবে কয়েকদিন পার হলেও কোনো বিচার না করে কালক্ষেপণ করা হয় এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে উল্টো হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করা হয়েছে বলে জানান খোকা মিয়া।
সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি
স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম হায়দার বলেন, মতি মিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টার যে অভিযোগ উঠেছে, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে দোষী প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে অপরাজনীতি বা নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা না করে, সেদিকেও নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।
রূপসদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কুদ্দুস মেম্বার বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে তার কঠিনতম শাস্তি হওয়া উচিত।
অভিযুক্তের পরিবারের বক্তব্য
বুধবার বিকেলে সরেজমিনে অভিযুক্ত মতি মিয়ার বাড়িতে গেলে তাঁর স্ত্রী অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন।
মতি মিয়ার স্ত্রী বলেন, তাঁদের চার ছেলে প্রবাসী এবং এক মেয়ে বিবাহিত। তাঁদের বিত্তবৈভবের কারণেই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। মতি মিয়ার যোগাযোগের নম্বর জানতে চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
পুলিশের বক্তব্য
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। তবে থানায় এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। আদালত থেকে নির্দেশনামা পেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, প্রতিবন্ধী শিশুকে ঘিরে এ অভিযোগের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে দাবি করে পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নোট: এ ঘটনায় আদালতে মামলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

প্রকাশক : আলী আহাম্মেদ, সম্পাদক : মো: আসাদুজ্জামান

প্রিন্ট করুন