Logo
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  প্রিন্ট: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেওয়া নারীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করলেন সাহসী পুলিশ-অমিত হাসান

এটিএমটিভি ২৪

এটিএমটিভি ২৪

তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেওয়া নারীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করলেন সাহসী পুলিশ অমিত হাসান

আলী আহাম্মেদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা এক নারীকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে উদ্ধার করেছেন কনস্টেবল অমিত হাসান। পরে ওই নারীকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে শহরের শিমরাইল কান্দি এলাকার প্রথম ব্রিজে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া ওই নারীর বয়স ২৪ বছর। তিনি বিবাহিত।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ওই নারী শিমরাইল কান্দি এলাকার প্রথম ব্রিজ থেকে তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে সেখানে থাকা পুলিশ লাইন্সের কনস্টেবল অমিত হাসান এক মুহূর্ত দেরি না করে নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে সাঁতরে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করেন তিনি।
একটি নৌকার সহায়তায় ওই নারীকে নদীর পাড়ে আনার পর দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
জানা গেছে, কনস্টেবল অমিত হাসানের বিদায় উপলক্ষে তার ব্যাচমেট কনস্টেবল মো. ফয়সাল ও ইফরান মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে রাতে শেখ হাসিনা সেতু এলাকায় ঘুরতে ও নাশতা করতে গিয়েছিলেন তিনি। এ সময় তারা দেখতে পান, এক নারী ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন অমিত হাসান এবং ওই নারীকে উদ্ধার করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের পুলিশ বক্সে দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল মঞ্জুর আলম ফারাবী বলেন, একজন নারী ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর কনস্টেবল অমিত হাসান সঙ্গে সঙ্গে পানিতে লাফিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ নম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি ওই নারীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
ওই নারীর মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস আগে সদর উপজেলার রাধিকা-জগতসার গ্রামে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জে থাকতেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন মাস আগে তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
পরিদর্শক নাছির উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহ কিংবা স্বামীর সঙ্গে অভিমান থেকে ওই নারী আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকতে পারেন। রাত ১২টার দিকে তাকে তার মা ও বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, কনস্টেবল অমিত হাসানের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, সাহসিকতা ও মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে একজন নারীর জীবন রক্ষা করায় তার পরিবারের সদস্যরাও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

প্রকাশক : আলী আহাম্মেদ, সম্পাদক : মো: আসাদুজ্জামান

প্রিন্ট করুন