জুলাই যোদ্ধাদের পাশে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন: গুলিবিদ্ধ আমীর পেলেন ঘর, দৃষ্টিহীন আজিজুলের হাতে অটোরিকশা
আলী আহাম্মেদ
বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি | ৬ আগস্ট ২০২৬
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ ও আহত দুই যুবকের পুনর্বাসনে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহত আমীর হোসেনকে একটি নতুন বসতঘর এবং চোখে গুলির স্প্লিন্টার লেগে দৃষ্টিশক্তি হারানো আজিজুল হককে জীবিকার জন্য একটি অটোরিকশা প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ সহায়তা প্রদান করা হয়। জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়।
জানা যায়, আন্দোলনের সময় ঢাকার রামপুরা এলাকায় পুলিশের ধাওয়ার মুখে প্রাণ বাঁচাতে একটি বহুতল ভবনের কার্নিশে ঝুলে ছিলেন আমীর হোসেন। এ সময় পুলিশের ছোড়া গুলিতে তার পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। শারীরিক অক্ষমতার কারণে গ্রামে ফিরে এলেও তার পরিবারের নিরাপদ বসবাসের মতো কোনো ঘর ছিল না। আর্থিক সংকটের মধ্যেই মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তারা।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের গুলির স্প্লিন্টার আজিজুল হকের চোখে লাগে। এতে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। বর্তমানে তিনি কর্মক্ষম নন এবং আয়-রোজগারের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই।
আজিজুল হক বলেন, “এতদিন কেউ আমার খোঁজ নেয়নি। আজ অটোরিকশা পেয়ে ভালো লাগছে। আমার চোখের চিকিৎসারও প্রয়োজন।
জুলাই আন্দোলনে আহত এই দুই যুবকের দুর্দশার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে আমীর হোসেনের পরিবারের জন্য একটি নতুন বসতঘর নির্মাণ করা হয় এবং আজিজুল হকের জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি অটোরিকশা প্রদান করা হয়।
নতুন ঘর পেয়ে আমীর হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ায় দীর্ঘদিনের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ আজিজুল হকের পরিবারের হাতে অটোরিকশার চাবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলে দেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিএনপি ও গণসংহতি আন্দোলনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, “জুলাই আন্দোলনে আহতদের ত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাদের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে উপজেলা প্রশাসন মানবিক দায়িত্ব থেকে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য অনুপ্রেরণা। জুলাইয়ের শহীদরা সম্মান চান, আহতরা সুস্থতা চান। আমরা সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের রক্ত এবং আর্তনাদের ঋণে রাষ্ট্র, সংসদ ও দেশের মানুষ আবদ্ধ। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যতে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য সরকার আরও নানা ধরনের সহায়তার পরিকল্পনা করছে। তাদের কষ্টের ভাগিদার হতে আমরা সবসময় পাশে থাকব।