ছয়ফুল্লাকান্দি মাজারের ওরসে সংঘর্ষ: ৪ পুলিশ সদস্য আহত, ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
আলী আহাম্মেদ
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ৩ আগষ্ট ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের মাছিমনগর গ্রামে হযরত শাহ রাহাত আলী (রা.)-এর বার্ষিক ওরস চলাকালে দুই পক্ষের বিরোধ থামাতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় টহলরত ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন— কনস্টেবল মো. ফরহাদ হোসেন, এমদাদুল হক, সাইফুল আলম ও হোসনে মোবারক। এছাড়া ওরশের জেনারেটর চালক রেজন মিয়াও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, গত ২৯ জুলাই শুরু হওয়া ওরসের সময় একটি দোকানের বিদ্যুতের বিল পরিশোধকে কেন্দ্র করে জেনারেটর চালক রেজন মিয়া ও মনির হোসেনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় অভিযুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় মাছিমনগর এলাকায় অবস্থিত রাহাত আলী স্কুলের কিছু আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত প্রায় ৪০ সদস্যের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জেনারেটর চালক রেজন মিয়া দাবি করেন, তিনি আহত পুলিশ সদস্যদের রক্ষা করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০–৬০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
জেলা পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, ঘটনায় মামলা হয়েছে। অপরাধীরা পালিয়ে রক্ষা পাবে না। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওরশ কমিটির সভাপতি ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পুলিশের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পুলিশ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।